ভেঙে পড়ল পুরীর মন্দিরের গর্ভগৃহের একাংশ, পুজোর সময় খসে পড়ল ১.৫ কেজি ওজনের চাই



 ODD বাংলা ডেস্ক: মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর স্নান পর্বের পর যখন তাঁদের বেশভূষা পরানো হচ্ছিল তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। তবে, ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। বর্তমানে শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ।


ভেঙে পড়ল পুরীর মন্দিরে গর্ভগৃহ। জগন্নাথ মন্দিরে ঘটল এক অমঙ্গল কাণ্ড। জগন্নাথ দেবের মন্দিরে ঘটা এক দুর্ঘটনায় আতঙ্কিত সেবায়েত মহল। জানা গিয়েছে, মন্দিরের ১.৫ কেজি ওজনের চাই খসে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর স্নান পর্বের পর যখন তাঁদের বেশভূষা পরানো হচ্ছিল তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। তবে, ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। বর্তমানে শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ।


ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। সেই প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী মন্দিতেই অধিষ্ঠান করেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও সঠিক সময় শুরু হয়েছিল স্নান পর্ব। সেই স্নান পর্বের শেষ বেশভূষা পরানো হচ্ছিল দেবতাদের। সেই সময়ই আচমকা ভেঙে পড়ে দেওয়ালের প্লাস্টার। সেই প্লাস্টেরের ওজন কম করে দেড় কেজি হবে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মন্দিরের সেবায়েতরা। তবে, সৌভাগ্যবসক ১.৫ কেজি ওজনের চাই খসে পড়লেও কেউ আহত হয়নি। কিন্তু, এত রক্ষণাবেক্ষণ করা সত্ত্বেও কেন চাই খসে পড়ল সে বিষয় উঠেছে প্রশ্ন। মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। তাহলে, তারা এমন কী কাজ করল যে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল- সেবায়েত মহলে উঠেছে এই প্রশ্ন। 


জানা গিয়েছে, রথযাত্রার সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ি থাকেন। সেই সময় ২ জুলাই  আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র সদস্যরা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এসেছিলেন। কিন্তু, কেন তারা এমন ফাটল দেখতে পেল না তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অনেকের দাবি, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র গাফলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এই প্রসঙ্গে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গর্ভগৃহের ভিতরে সর্বক্ষণ ভেজা বাব তাকে। সে কারণে খসে পড়তে পারে। এতে চিন্তার কারণ নেই। তাদের দাবি গর্ভগৃহ সুরক্ষিত আছে। ইতিমধ্যেই শুরু রয়েছে মেরামতির কাজ। 


 পুরীর মন্দির বহু মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত। এটি আমাদের ঐতিহ্য। নানান কাহিনি জড়িত আছে মন্দির ঘিরে। প্রায় দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল পুরীর মন্দির। প্রচীন এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে সব সময়ই সতর্ক থাকেন পুরীর মন্দির কমিটির সদস্যরা। নজর রাখেন রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা। তবে, তা সত্ত্বেও কেন এমন হল সে বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.